
একদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা—সব মিলিয়ে এক গভীর সংকটের মুখে পড়েছে নবগঠিত বিএনপি সরকার। রাজস্ব ঘাটতি, আইএমএফের ঋণ অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মাথায় সরকার এখন ‘অগ্নিপরীক্ষা’র সম্মুখীন।
ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই সরকারের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে আইএমএফের ৩.২ বিলিয়ন ডলার ঋণের অনিশ্চয়তা। শর্ত পূরণ না হওয়ায় এই ঋণ আটকে গেছে, যার ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে বাধ্য হয়েছে সরকার।
মূল্যস্ফীতি: লক্ষ্যমাত্রা ৬.৫% হলেও বর্তমানে তা ৮.৭১%। তেলের দাম বাড়ায় এটি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা।
ডলার সংকট: খোলা বাজারে ডলারের দাম ১২৭ টাকা ছাড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়ায় আমদানি ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার।
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান: বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ৯.৮৬% থেকে কমে ৬.০৩%-এ নেমেছে। মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমায় নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, “জ্বালানি আমদানির উচ্চ ব্যয় এবং আগের ঋণের বোঝা সামষ্টিক অর্থনীতিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। আগামী বাজেটে গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে বাস্তবসম্মত সংস্কার জরুরি।”
অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়াচ্ছে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিতে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি-র নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ১৫ দিনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
সংসদ উত্তপ্ত: আওয়ামী লীগকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা এবং গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল ইস্যুতে সংসদ এখন সরগরম।
ক্যাম্পাসে উত্তেজনা: ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যেকার সাম্প্রতিক সংঘর্ষ রাজনীতির মাঠে নতুন দুশ্চিন্তা যোগ করেছে।
জনগণের প্রত্যাশা: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সরকারকে জনরোষের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইনুল ইসলাম মনে করেন, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে আন্দোলন স্বাভাবিক হলেও এর পেছনে ‘তৃতীয় পক্ষ’ যেন সুবিধা নিতে না পারে, সেদিকে সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।