
দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশের ১ হাজার ৪০০-এর বেশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বর্তমানে নির্বাচনের জন্য উপযুক্ত। সীমানা জটিলতা বা আইনি কোনো বাধা না থাকায় সরকার ‘সবুজ সংকেত’ দিলেই যেকোনো সময় তফসিল ঘোষণা করতে পারে কমিশন।
ইসি’র মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের উপযোগী প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে:
-
১২টি সিটি করপোরেশন: (ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহীসহ সবকটি)।
-
উপজেলা পরিষদ: ৪৯৫টির মধ্যে প্রায় ৪৫০টির বেশি।
-
পৌরসভা: ৩৩০টির মধ্যে প্রায় ৩০০টি।
-
ইউনিয়ন পরিষদ: বর্তমান পর্যায়ে প্রায় ৬০০টি (জুলাইয়ের মধ্যে আরও ২,৮০০টি যুক্ত হবে)।
-
জেলা পরিষদ: ৬১টি।
গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ ভেঙে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করেছিল। আইন অনুযায়ী পরিষদ ভেঙে দেওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সিটি ও জেলা পরিষদে দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ। এখন সরকারের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ঠিক করা হবে কোন নির্বাচনটি আগে হবে। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, চলমান এসএসসি পরীক্ষা এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমের কথা বিবেচনায় রেখে বছরের শেষদিকে বড় পরিসরে এই ভোট উৎসব শুরু হতে পারে।
তফসিল ঘোষণা না হলেও বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও জন সংযোগের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। বিএনপি’র তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যেও নির্বাচনি তৎপরতা চোখে পড়ার মতো।
