
দীর্ঘ ১৭ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় ফেরা বিএনপি সরকারের দুই মাস পূর্ণ হচ্ছে আজ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং ব্যক্তিগত কৃচ্ছ্রসাধনের মাধ্যমে তাঁর সরকার যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি জ্বালানি সংকট ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়ে মুখোমুখি হয়েছে বড় চ্যালেঞ্জের।
ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দুই মাসের মধ্যে বিএনপি তাদের ইশতেহারের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দফা বাস্তবায়ন শুরু করেছে:
-
ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ড: স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে।
-
ভাতা ও ঋণ মওকুফ: ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সরকারি সম্মানী প্রদান এবং ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
-
খাল খনন: কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়াতে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘মানসিকতার পরিবর্তন’কে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর ছোট গাড়িবহর, শনিবার অফিস করা, সরকারি গাড়ির পরিবর্তে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার এবং সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গতকাল এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমরা জুলাই সনদের প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করব।”
সাফল্যের পাশাপাশি সরকারের দুই মাসের পথচলা খুব একটা মসৃণ ছিল না:
-
জ্বালানি সংকট: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও সরকার দেশে তেলের দাম বাড়ায়নি। তবে সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদে বিরোধী দলের কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রী অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন যে, পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।
-
অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মব ভায়োলেন্স: মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএসএস-এর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে মব ভায়োলেন্স ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহতের ঘটনা ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষুণ্ণ করেছে। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ঘটনা নিয়ে এখনো দেশজুড়ে আলোচনা চলছে।
-
অধ্যাদেশ বাতিল নিয়ে বিতর্ক: সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকার ও বিচার বিভাগ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিল করা নিয়ে টিআইবি ও সুজনের মতো সংগঠনগুলো উষ্মা প্রকাশ করেছে। সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার প্রশ্ন তুলেছেন, কেন এসব জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ রহিত করা হলো?
বিএনপির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন একে বড় ধরনের ‘সফলতা’ হিসেবে দেখছেন। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, যুদ্ধের মধ্যেও তেলের দাম না বাড়ানো সরকারের বড় কৃতিত্ব। রুহুল কবির রিজভী দাবি করেছেন, রমজান মাসে সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখা ছিল গত দুই মাসের অন্যতম অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত।
